Tuesday, 18 November 2014
ধাঁচ বদলে ‘সহজ’ হল জয়েন্ট এন্ট্রান্স
ইঞ্জিনিয়ারিং ও মেডিক্যালের প্রবেশিকা পরীক্ষায় একগুচ্ছ পরিবর্তন আনল রাজ্য জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ড৷ জয়েন্ট বোর্ডের কর্তারা বলছেন, 'পড়ুয়াদের চাপ কমাতেই জয়েন্টের সিলেবাসে বদল আনা হল৷' যদিও রাজ্যের শিক্ষামহলের একাংশের মতে, মেধার সঙ্গে আপস করে জয়েন্টে সাফল্যের পথ সহজ করে দেওয়া হয়েছে৷ বছর দেড়েক পর রাজ্যে বিধানসভার ভোট৷ তার আগে যাতে আরও বেশি ছাত্রছাত্রী ইঞ্জিনিয়ারিং ও মেডিক্যাল পড়ার সুযোগ পান, সেই লক্ষ্যেই সিলেবাস সংশোধন করা হয়েছে৷
কী কী পরিবর্তন এল ২০১৫ সালের জয়েন্ট এন্ট্রান্সে?
রাজ্য জয়েন্ট বোর্ডের চেয়ারম্যান ভাস্কর গুপ্ত সোমবার জানান, রাজ্য ও কেন্দ্রীয় স্কুল বোর্ডগুলির সিলেবাসের সঙ্গে তাল রেখেই জয়েন্ট পরীক্ষায় পরিবর্তন করা হয়েছে৷ এ বার থেকে পদার্থবিদ্যা ও রসায়নের একটিই পেপার হবে৷ দু'টি গ্রুপে ৫০ নম্বর করে মোট ১০০ নম্বরের পরীক্ষা হবে৷ কিন্তু কম্বাইনড পেপার হলেও দু'টি বিষয়ে আলাদা করে পাশ করতে হবে৷ গত বছর পর্যন্ত ৭৫ নম্বর করে মোট ১৫০ নম্বরের দু'টি পরীক্ষা আলাদা ভাবে দিতে হত৷
জয়েন্ট বোর্ডের চেয়ারম্যান জানান, পাশাপাশি বায়োলজিক্যাল সায়েন্সেস-এর নম্বর ১০০ থেকে বাড়িয়ে ১৫০ করা হয়েছে৷ অঙ্কের মোট নম্বর একই থাকছে৷ এ ছাড়া নেগেটিভ মার্কিংয়ের হারও কমানো হয়েছে৷ গতবারের পরীক্ষায় যেখানে একটি প্রশ্নের উত্তর ভুল করলে প্রান্তমানের উপর ১/৩ হারে নম্বর কাটা হত৷ এ বছর থেকে তা কমিয়ে ১/৪ হারে সেই মার্কস কাটা হবে৷ ফার্মাসির ক্ষেত্রে বিচার্য হবে রসায়ন ও পদার্থবিদ্যার নম্বর৷
বছর বছর রাজ্যের ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ুয়াদের ভিড় কমছে৷ চলতি বছরে রাজ্য জয়েন্ট বোর্ডের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় কাউন্সেলিংয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মোট ৪০ হাজার আসনের মধ্যে ২৫ হাজারই ফাঁকা ছিল৷ পড়ুয়াদের এই অনীহা কাটানোর দাওয়াই হিসেবেই কি এই পরিবর্তন? রাজ্য জয়েন্ট বোর্ডের সিলেবাস সংশোধনে সেই প্রশ্নও উঠছে৷ যে ভাবে এন্ট্রান্স বোর্ড একধাক্কায় পরীক্ষায় নেগেটিভ মার্কস কমানো থেকে কম্বাইনড পেপার নিয়ে এসেছে, তাতেই এই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় পাশ করা সহজ হয়ে গেল বলে মনে করছেন কেউ কেউ৷ তবে ভাস্করবাবুর দাবি, 'পড়ুয়াদের উপর বাড়তি চাপ কমাতেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে৷ কারণ ছাত্রছাত্রীরা কতটা জানে, সেটাই আমাদের দেখতে হবে৷ কতটা জানে না, সেটা খুঁজে বের করা জয়েন্ট বোর্ডের কাজ নয়৷'
গত কয়েক বছরে এ রাজ্যের ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ৩৫ শতাংশ পড়ুয়া ছিল ভিন রাজ্যের৷ তার পরও বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন ফাঁকা থাকছিল৷ এমনকি, যাদবপুর ও বেসু-র মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও এক চিত্র দেখা গিয়েছে৷ সঙ্গে অজস্র বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ তো রয়েইছে৷ তাই যে ইঞ্জিনিয়ারিং প্রবেশিকা পরীক্ষা গত বছর পর্যন্ত হত মোট ২৫০ নম্বরের উপর, সেখানে এ বার থেকে এক ধাক্কায় তা ৫০ নম্বর (গণিত ১০০ ও পদার্থবিদ্যা ও রসায়ন মিলে ১০০ নম্বরের পরীক্ষা দিতে হবে) কমে গেল৷
সূত্রের খবর, ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পাশাপাশি মেডিক্যালে ভর্তি নিয়েও প্রবল চাপ ছিল৷ সব মিলিয়ে ২২৫০ আসন পিছু দু'জন করে জয়েন্ট উত্তীর্ণ প্রার্থী না থাকলে কাউন্সেলিংয়ে সমস্যা হচ্ছিল৷ প্রসঙ্গত, মেডিক্যাল কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া (এমসিআই)-এর নিয়ম হল জয়েন্টে পদার্থবিদ্যা-রসায়নবিদ্যা এবং বায়োলজিক্যাল সায়েন্সে মোট ৫০ শতাংশ নম্বর না পেলে ভর্তি করা যাবে না৷ পদার্থবিদ্যা ও রসায়নের তুলনায় বায়োলজিক্যাল সায়েন্স অনেক স্কোরিং বলেই নম্বর বাড়ানো হল৷ ২০১৩ সালে পদার্থবিদ্যা ও রসায়ন পেপার আলাদা করে দেওয়া হয়েছিল৷ কারণ সে বার সিবিএসই দেশজুড়ে মেডিক্যালের ভর্তি পরীক্ষা নিয়েছিল৷ কিন্তু চলতি বছরে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পাশাপাশি মেডিক্যালের প্রবেশিকা পরীক্ষার ভারও রাজ্য জয়েন্ট বোর্ডে ঘাড়ে এসে পড়ে৷ ফলে রসায়ন ও পদার্থবিদ্যার পরীক্ষা পৃথক ভাবে নিলে বহু পরীক্ষার্থী প্রবেশিকায় বসতেন কি না তা নিয়ে সংশয়ে ছিল জয়েন্ট বোর্ড৷ চেয়ারম্যানের কথাতেও তা স্পষ্ট হয়েছে৷
ভাস্করবাবু এ দিন বলেছেন, 'কোনও ছাত্র বা ছাত্রী যদি মেডিক্যাল ও ইঞ্জিনিয়ারিং, উভয় পরীক্ষাতেই বসতে চান, তা হলে কেন্দ্রীয় স্তরের ইঞ্জিনিয়ারিং ও ডাক্তারির প্রবেশিকায় আলাদা আলাদা করে তাঁদের পদার্থবিদ্যা ও রসায়নের পরীক্ষা দিতে হত৷ কিন্তু আমাদের ক্ষেত্রে সেই সমস্যা রইল না৷ রাজ্য জয়েন্টে বসা পড়ুয়াদের একবারই পদার্থবিদ্যা ও রসায়ন পরীক্ষা দিতে হবে৷' EI SAMAY
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment