Sunday, 23 November 2014

বিলুপ্তির পথে দেশের প্রথম যুদ্ধজাহাজ


ধ্বংসের মুখে দাঁড়িয়ে যুদ্ধবিমান বহনে সক্ষম দেশের প্রথম জাহাজ। এই জাহাজ টুকরো টুকরো করে ফেলার কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। আর কিছুদিনের মধ্যেই কয়েক টুকরো ইস্পাতের পাতে পরিণত হবে ১৯৭১-এ ভারত-পাক যুদ্ধের সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেওয়া আইএনএস ভিক্রান্ত।

দেশের প্রথম যুদ্ধজাহাজ রক্ষায় বেশ কয়েক বছর ধরেই আওয়াজ ওঠে। 'save vikrant' নামে একটি কমিটিও গঠন হয়। ভারতের সামরিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী ভিক্রান্তকে ধ্বংস না করে তারে মিউজিয়ামে পরিণত করার দাবি ওঠে। এ বিষয়ে দিল্লি হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়। কিন্তু ভিক্রান্ত-এর পরিণতি স্থির করার অধিকার পুরপুরো কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে ছেড়ে দেয় আদালত। মামলা গড়ায় সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। কিন্তু দিল্লি হাইকোর্টের রায়কেই মান্যতা দেয় শীর্ষ আদালত।

এই বছরই নিলামে ওঠা ভিক্রান্তকে ৬৩ কোটি টাকায় কিনে নেন মুম্বইয়ে আইবি কমার্শিয়ালস প্রাইভেট লিমিটেডের মালিক আবদুল করিম জাকা। তাঁর সঙ্গেও কথা বলেন 'save vikrant'-এর সদস্যরা। জাহাজের অধিকার ছেড়ে দিতে রাজি থাকলেও, যে টাকায় তিনি ওটা কিনেছেন, সেই ৬৩ কোটি টাকা ফেরত চান। কোনও সদুত্তর না পেয়ে শেষ পর্যন্ত ভিক্রান্ত ধ্বংস করার কাজ শুরু হল। মঙ্গলবার দুপুর ২টো থেকে ২০০ জন কর্মী মিলে ইলেকট্রিক করাত দিয়ে ১৫,৭০০ টনের জাহাজটি টুকরো টুকরো করে ফেলার কাজ শুরু করে।

১৯৫৭ সালে ব্রিটেনের কাছ থেকে অসম্পূর্ণ এই যুদ্ধ জাহাজটি কেনে ভারত। যুদ্ধবিমান বহনে সক্ষম জাহাজটি সম্পূর্ণ করে ১৯৬১ সালে তুলে দেওয়া হয় ভারতীয় নৌ বাহিনীর হাতে। নাম দেওয়া হয় আইএনএস ভিক্রান্ত। ১৯৭১-এর ভারত-পাক যুদ্ধের সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এই জাহাজ। এই জাহাজের নাবিকদের মধ্যে দু-জন মহাবীর চক্র এবং ১২ জন বীর চক্র খেতাব পান। দীর্ঘদিন নৌ বাহিনীর সদস্য থাকার পর ১৯৯৭-এ অবসর দেওয়া হয় ভিক্রান্তকে। ভিক্রান্তকে কোলাবার কাছে ওয়েস্টার রকে রেখে মিউজিয়ামে পরিণত করতে প্রাথমিক ভাবে সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। কিন্তু বিভিন্ন কারণে পরে তা ভেস্তে যায়। শেষ পর্যন্ত কালের অতলে হারিয়ে যাওয়াই পরিণতি হল ভারতের প্রথম যুদ্ধ জাহাজের।EI SAMAY

No comments:

Post a Comment