কলকাতা: আক্ষরিক
অর্থেই কলকাতার এবার পাতালযাত্রা৷ মেট্রো রেলের দৌলতে এতদিন রাজধানীর
নাগরিক পাতাল যাত্রা করেছে৷ এবার শুধু মাটির তলা দিয়ে নয়, সুগভীর হুগলি
নদীর নীচ দিয়েও পাতালযাত্রা করা যাবে৷
জল-মাটি মিলিয়ে তাও প্রায় ৩০ মিটার তলা
দিয়ে! এককথায় বলা যেতে পারে, প্রায় সাড়ে সাততলা বহুতল সমান মাটির নীচ
দিয়ে বিদ্যুতের গতিতে ছুটবে ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো রেলের ট্রেন৷ কলকাতা
মেট্রো রেল কর্পোরেশন লিমিটেডের (কেএমআরসিএল) নীল-নকশা এমনটাই জানাচ্ছে৷
কেএমআরসিএল-এর লক্ষ্যমাত্রা ছিল, ২০১৪
সালের মধ্যেই বিষ্ময় সৃষ্টিকারী হুগলি নদীর নীচের এই ট্যানেল তৈরির কাজ
শেষ হয়ে যাবে৷ ২০১৩ পর্যন্ত খুব দ্রুতগতিতেই প্রাথমিক কাজ এগচ্ছিল৷
কিন্তু, পরবর্তীকালে নানা কারণে ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোরেল প্রকল্পের কাজে
ভাঁটা পড়ে৷ স্বাভাবিকভাবেই হুগলি নদীর নীচের এই ট্যানেল তৈরির
লক্ষ্যমাত্রা পিছিয়ে দিতে হয়েছে৷
কেন্দ্রীয় নগরোন্নয়ন মন্ত্রক এবং
রেলমন্ত্রকের যৌথ উদ্যোগে নির্মীয়মাণ ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো রেল প্রকল্পে
বিষ্ময়ের কোনও অন্ত নেই৷ ইতিমধ্যেই ট্যানেল বোরিং মেশিনের মাধ্যমে সুড়ঙ্গ
তৈরি করে চমক লাগিয়ে দিয়েছে কলকাতাবাসীকে৷ দমদম-থেকে টালিগঞ্জ মেট্রো
রেলর ট্যানেল তৈরির সময় যেভাবে মাটি কেটে, সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলে
সুড়ঙ্গ তৈরি হয়েছিল, ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর ফুলবাগান থেকে হাওড়া ময়দান
পর্যন্ত ট্যানেল তৈরির জন্য কোনও সমস্যা হচ্ছে না৷ তাইল্যান্ড থেকে আমদানি
করা স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রের মাধ্যমে সুড়ঙ্গ নির্মাণ করে বসছে রেললাইন৷
এই প্রকল্পের আরও একটি চমক ও বিষ্ময়
হচ্ছে, সুগভীর হুগলি নদীর তলা দিয়ে জোড়া ট্যানেল৷ কেএমআরসিএল সুত্রে জানা
গিয়েছে, এই বিষ্ময় সৃষ্টিকারী হাওড়া ময়দান থেকে সেন্ট্রাল পর্যন্ত
৩.৮৯ কিলোমিটার ট্যানেলটি তৈরি করছে অ্যাফকন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার৷ এটি
নির্মাণ করতে খরচ হচ্ছে প্রায় ৯৩৮ কোটি টাকা৷
এই নির্মাণ সংস্থা থেকে পাওয়া নীল নকশা অনুযায়ী, হুগলি নদীর গভীরতা ১৫ মিটার৷ নদীতে যেখানে জলস্তর শেষ হচ্ছে, তার থেকে আরও ১৫ মিটার গভীরে নির্মাণ হবে ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো রেলের সুড়ঙ্গপথ৷ পাশাপাশি তৈরি হবে আপ-ডাউন ট্রেন চলাচলের মতো দু’টি ট্যানেল৷ প্রতিটি ট্যানেলের ব্যাসার্ধ হবে ৫.৪ মিটার৷ এই ট্যানেল দিয়ে ট্রেন চলাচল শুরু হলে, আক্ষরিক অর্থেই কলকাতা ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোরেলের যাত্রীদের পাতালযাত্রা হবে৷
এই নির্মাণ সংস্থা থেকে পাওয়া নীল নকশা অনুযায়ী, হুগলি নদীর গভীরতা ১৫ মিটার৷ নদীতে যেখানে জলস্তর শেষ হচ্ছে, তার থেকে আরও ১৫ মিটার গভীরে নির্মাণ হবে ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো রেলের সুড়ঙ্গপথ৷ পাশাপাশি তৈরি হবে আপ-ডাউন ট্রেন চলাচলের মতো দু’টি ট্যানেল৷ প্রতিটি ট্যানেলের ব্যাসার্ধ হবে ৫.৪ মিটার৷ এই ট্যানেল দিয়ে ট্রেন চলাচল শুরু হলে, আক্ষরিক অর্থেই কলকাতা ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোরেলের যাত্রীদের পাতালযাত্রা হবে৷
No comments:
Post a Comment