একে তো মহাশূন্যে নানা ঝকমারি। মাধ্যাকর্ষণ না থাকায় ইচ্ছেমতো চলে ফিরে বেড়ানোর উপায় নেই। কিন্ত্ত খিদেটা প্রাকৃতিক নিয়মে পাবেই৷ তখন? পাওয়া অবশ্য সেখানে সবই যায়৷ ইউরি গ্যাগারিনকে মাংস আর চকোলেটের পেস্ট করে টিউবে বয়ে নিয়ে যেতে হয়েছিল বলে সুনীতা উইলিয়ামসকেও যে তেমনই দুর্দশা সইতে হয়েছে সেটা ভাবার কারণ নেই৷
তবে মহাকাশে যাওয়ার আগে সবকিছু গুছিয়ে রাখতে হয়, এই যা। সুনীতা যেমন গুছিয়ে সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন শিঙারার প্যাকেট।
তবে এবার মহাকাশচারীদের জন্য আরো একটা সুখবর।
তাঁদের জন্য নতুন এক ধরনের ব্রেকফাস্ট ‘বার’ তৈরি করা হচ্ছে। প্রস্ত্ততি চালাচ্ছে মার্কিন গবেষণাকেন্দ্র নাসা। কাজ প্রায় শেষ। কিছুটা চকোলেট বারের মতোই দেখতে। তবে একটি বার খেলেই তাঁদের প্রতিদিনের ব্রেকফাস্টের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্যগুণের প্রায় সবটাই পূরণ হয়ে যাবে।
একেকটি বারে থাকছে প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ ক্যালরি পুষ্টিগুণ। আর সাধারণ চকো বারের মতো দেখতে হওয়ায় জিরো গ্র্যাভিটি বা শূন্য মাধ্যাকর্ষণের আন্তর্জাতিক মহাকাশ গবেষণাকেন্দ্রে কাজ করা মহাকাশচারীদের এই ব্রেকফাস্ট বারটি খেতে শূন্যে খাবারটিকে ধাওয়া করতেও হবে না।
ভূপৃষ্ঠ থেকে ২৬০ মাইল উচ্চতার মহাকাশ গবেষণাকেন্দ্রে খাবার আর অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পৌঁছে দিতে মালবহনকারী স্পেসশিপ নিয়মিত যাতায়াত করে। কিন্ত্ত হাল্কা, আকারে ছোট এই ব্রেকফাস্ট বার অল্পতেই পুষ্টির অনেকটা প্রয়োজন মেটাবে।
নাসা জানাচ্ছে, এখন শুধু প্রাতরাশের কথা ভেবে এই বার বানানো হলেও শীঘ্রই ডিম, সসেজ, পাউরুটি আর পানীয়ের প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে আরও অন্তত ছয় রকমের ‘প্যাকেজ ফুড’ বানানোর কথা ভাবা হচ্ছে৷
হিউস্টনের জনসন স্পেস সেন্টারে নাসার সঙ্গে এই ধরনের খাদ্যের ব্যাপারে চুক্তিরত সংস্হার অন্যতম কর্তা মায়া কুপার জানিয়েছেন, মহাকাশে শুধু খেলেই তো হল না, সেই খাবার থেকে যা বর্জ্য তৈরি হল, তা সে প্যাকেট কিংবা টিউব, ফয়েল কিংবা খাবারের অবশিষ্ট অংশ যা-ই হোক না কেন, তাকে সংগ্রহ করে রাখতে হয়, পরবর্তীকালে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার জন্য৷ তা-ই যে কোনো খাবার থেকেই এই বর্জ্যের পরিমাণ আর ওজন যত কম হবে বা তা যতটা কম জায়গা দখল করবে ততই সুবিধা৷
তাই পাঁচ পদের ভাত-ডাল-মাছের ঝোলের বদলে যদি একটা ছোট্ট ‘বার’ খেলে পেট ভরানোর কাজ আর খাদ্যের প্রয়োজন সারা যায়, তাহলে সোনায় সোহাগা। এবার সেই কাজেই অনেকটা এগিয়ে গেল নাসা।
No comments:
Post a Comment