Monday, 1 December 2014

মেয়ের জামাই নিয়ে সমস্যা? জেনে রাখুন কিছু বিষয়

মেয়েকে দেখে শুনে ধুমধাম করে বিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু কিছু দিন যেতে না যেতেই জামাইকে নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা রকমের সমস্যা। সব কথায় মতামত দেয়, অন্য কারও মতামত শুনতে রাজি নয়, কেউ কিছু বললে সব ব্যাকডেটেড চিন্তা-ভাবনা বলে উড়িয়ে দেয়, হুটহাট করেই শ্বশুর বাড়ি চলে আসা, সব কথায় কথা বলা, কথায় কথায় নিজের পরিবারের সাথে তুলনা করা ইত্যাদি নানা বিষয় ধরে জামাইকে নিয়ে সমস্যা হচ্ছে? কিছু বলতে গেলেও মেয়েরও মুখ ভার? কী করে সমস্যা সামলাবেন বুঝতে পারছেন না। তাহলে জেনে রাখুন সমস্যা সনাধানের কিছু বিষয়।http://momsgetreal.com/wp-content/uploads/2011/02/Monster-In-Law.jpg


 শ্বশুর-শাশুড়ির যা করা উচিত

  ১। জামাইকে বোঝার চেষ্টা করুন। হয়তো আপনাদের ভালোর জন্যেই জামাই নানা ধরনের সাজেশন দেন। তাই প্রথমেই রাগ করবেন না।

 ২। জামাইয়ের কোন কথা পছন্দ না হলে যুক্তি দিয়ে বোঝান, কেন আপনার অপছন্দ হল। তার সাথে ঝগড়া করতে যাবেন না মোটেও। 

৩। জামাইয়ের পারিবারিক নিয়মনীতি, ধ্যানধারনা সব আপনাদের সাথে মিলে যাবে এমন কোনও মানে নেই। তাই এই পার্থক্যগুলো একটু বুঝুন।

 ৪। ছেলেকে যেভাবে বুঝিয়ে বলতেন ঠিক সেভাবেই জামাইকে বুঝিয়ে বলুন। সন্তান সুলভ আদরে সমস্যার সমাধান সম্ভব। 

৫। জামাইয়ের কোন সিদ্ধান্ত অপছন্দ হলে স্পষ্ট করে জানান।

 ৬। কোন কারনে জামাইয়ের কোনও মন্তব্য বা ব্যবহার ভালো না লাগলে জামাইকে সেটা বুঝিয়ে বলুন। 

 ৭। মেয়েকে এইসব সমস্যায় টানবেন না। কারন বাবা-মাও তাঁর জামাই ও তাঁর কোনও একজনের পক্ষ নেয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব না।

 ৮। কোনও বড় সিদ্ধান্তে জামাইয়ের মতামত না নিতে চাইলে তাকে প্রথমেই বলে দিন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জামাইকে বলুন, অনেকদিন আগে থেকেই আপনারা বিষয়টা নিজেরা সামলে নিবেন বলে ভেবে রেখেছেন।

 ৯। কোনও কিছুতে জামাইয়ের মতামত না নিলে শুধুমাত্র নিজেদের অসুবিধার সময় জামাইয়ের সাহায্য নেওয়াও কিন্তু কাম্য নয়। 

 ১০। আপনাদের সিদ্ধান্ত মানেই সেটা ঠিক এরকম ভাববেন না। তাই জামাই পরামর্শ দিলে সেটাকে মূল্য দিন।

 ১১। কিছু কিছু সময় স্পষ্টবাদী না হয়ে উপায় থাকেনা। সেরকম পরিস্থিতির সম্মুখীন হলে জামাইকে স্পষ্ট করে নিজের মনোভাব জনিয়ে দিন। 

জামাইয়ের যা করা উচিত 

  ১। কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে শ্বশুর-শাশুড়ির মতামত নিন। এতে ওঁরা বুঝতে পারবেন যে আপনার কাছে ওঁদের একটা গুরুত্ব আছে।

 ২। অন্যের জন্য কিছু করলে তবেই অন্যের কাছ থেকে কিছু আশা করুন। 

৩। কথায় কথায় নজের বাবা-মায়ের কথা টানবেন না। এটা ওঁদের পক্ষে অপমানজনক হতে পারে। আপনার স্ত্রীরও শুনতে ভাল লাগবেনা।

 ৪। শ্বশুর-শাশুড়িকে বোঝার চেষ্টা করুন। কোনও কিছু করতে উনারা বারণ করলে তার কারণ বোঝার চেষ্টা করুন।

 ৫। অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনদের কাছে শ্বশুর-শাশুড়ি নিন্দা করবেন না। আপনিই অন্যদের কাছে ছোট হয়ে যাবেন।

 ৬। একসঙ্গে যতটা সম্ভব সময় কাটান। একসঙ্গে গল্প করুন, বেড়াতে যান, নিজের বাবা-মায়ের মতোই শ্বশুর-শাশুড়িকে সম্মান করুন। এতে আপনারা একে অপরকে খুব সহজেই বুঝতে পারবেন।

 ৭। বয়স হলে অনেক সময় মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে। ওঁদের সমস্যাটা বুঝুন। যতটা সম্ভব যত্ন নিয়ে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করুন।

No comments:

Post a Comment