Friday, 21 November 2014

Texting-এর নেশা? ওজন চাপছে মেরুদণ্ডে!


মোবাইল ফোনে অনবরত মেসেজ আদানপ্রদানের অভ্যাস আছে? সাবধান, ভুলেও হাঁটতে হাঁটতে টেক্সট করবেন না! কারও সঙ্গে ধাক্কা তো লাগতে পারেই উপরন্তু, মারাত্মক চোট পাবেন মেরুদণ্ডে।

এযুগে মোবাইল ফোন মানুষের প্রায় অবিচ্ছিন্ন সঙ্গী। দিনে-রাতে বেশির ভাগ সময়েই মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত থাকি আমরা। নানা কাজের ফাঁকে মোবাইল ঘাঁটার অভ্যাস তো রপ্ত হয়েই গিয়েছে, এমনকি রাস্তায় চলতে চলতেও অনেকে মোবাঈল স্ক্রিন থেকে নজর সরাতে পারেন না। কিন্তু তা করতে গিয়ে অজান্তে মাথার পিছন ও ঘাড়ের উপর একরাশ ওজন চাপিয়ে দেওয়া হয়, জানাচ্ছেন চিকিত্‍সকরা। তাঁদের দাবি, এই ওজন তিনটি লোহার তৈরি বোলিং বলের সমান।

সম্প্রতি 'সার্জিক্যাল টেকনোলজিকাল ইন্টারন্যাশনাল' পত্রিকায় প্রকাশিত এক নিবন্ধে জানা গিয়েছে, হাঁটার সময় এসএমএস করলে মাথা ও ঘাড়ের উপর প্রায় ২৭ কিলোগ্রাম ওজনের চাপ তৈরি হয়, যা ৩টি বোলিং বল অথবা ২০০টি আইফোনের সমতুল্য।

গবেষক দলের প্রধান তথা মেরুদণ্ড ও অস্থি বিশেষজ্ঞ কেনেথ হন্সরাজ জানিয়েছেন, ঘাড় ও পিঠের সমস্যায় ভোগা অধিকাংশ রোগীর ক্ষেত্রে লক্ষ্য করা গিয়েছে, তাঁরা প্রত্যেকেই দিনের এক বড় অংশ মোবাইল ফোন বা ট্যাবলেটের উপর ঝুঁকে পড়ে নানা কাজ সারেন। হন্সরাজের কথায়, 'বলতে পারেন এ এক মহামারী। যেখানেই যাবেন, লক্ষ্য করে দেখবেন অধিকাংশ মানুষ, বিশেষত নবীনরা মোবাইলের উপর ঝুঁকে রয়েছেন।'

কিন্তু কীভাবে মাথার পিছনে ও ঘাড়ে সৃষ্টি হয় বাড়তি ওজন?

হন্সরাজ জানিয়েছেন, দীর্ঘক্ষণ মাথা ঝুঁকিয়ে রাখার ফলে মাথার নিজস্ব ওজন এবং এক নির্দিষ্ট কৌণিক অবস্থানে নাগাড়ে তা রাখার কারণে তৈরি হয় এই ভার। তিনি সাবধান করেছেন, এর ফলে শরীরের বিশেষ অংশে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয় এবং ক্ষয়প্রাপ্তি হয়, যার জেরে বহু সময়েই অনিবার্য হয়ে পড়ে অস্ত্রোপচার।

কীভাবে এড়ানো যাবে এই বদভ্যাস?

হন্সরাজের পরামর্শ, 'নিজের হাঁটাচলা সম্পর্কে সচেতন হোন। চোখের সামনে সবসময় মোবাইল তুলে ধরা সম্ভব না হলেও স্ক্রিনের উপর ঝুঁকে পড়ার অব্যাস দূর করুন। পাশাপাশি, নিয়মিত কিছু ব্যায়াম করাও দরকার। দু'টি সহজ ব্যায়াম হল-- কান দিয়ে কাঁধ ছোঁয়ার চেষ্টা এবং হাতের চাপের বিরুদ্ধে মাথা দিয়ে গুঁতো মারা।'

বর্তমানে কম্পিউটার ছাড়া জীবন অচল। কিন্তু সেই বাতিকের বশবর্তী হয়ে শরীরকে অহেতুক কষ্ট না দেওয়াই সমীচিন, জানাচ্ছেন ডক্টর কেনেথ হন্সরাজ। ei samay

No comments:

Post a Comment