Wednesday, 26 November 2014

অপরাধীদের ‘ত্রাস’ সততার প্রতীক মগধের সিংহম!


পটনা: শহরের এস পি শিবদীপ লান্ডে মঙ্গলবার সবেমাত্র কার্যভার গ্রহণ করেছেন৷ আর দায়িত্ব নিয়েই প্রথম যে কাজটি তিনি  করেছেন, তা হল নিজের চেয়ার পাল্টে নেওয়া৷ তাঁর টেবিলের সঙ্গে লাগোয়া যে চেয়ারটি আগে থেকে ছিল, তা সামনে বসা লোকজনের চেয়ারের তুলনায় উঁচু আর আরামদায়ক ছিল৷ কিন্তু শিবদীপ সোজা এই চেয়ারে বসতে অস্বীকার করেন প্রথম দিনেই ৷ তাঁর বক্তব্য, যে চেয়ারে বাকি সবাই বসে, তিনিও সেই চেয়ারেই বসবেন৷ দ্বিতীয়বার পাটনার সিটি এসপি-র পদভার গ্রহণ করার পর বলেন তাঁর কাজে জনতা প্রথম আর পুলিশ দ্বিতীয় পরিবার৷ সবার ঠিকঠাক দেখভালের জন্য তিনি যথাসম্ভব চেষ্টা করবেন৷
পুলিশ সুপারের দায়িত্ব নিয়েই নরম আরাম কেদারা সরিয়ে সাধারণ চেয়ারেই বসলেন৷ চেয়ার সরাচ্ছেন নিজেই
হ্যালো লান্ডে বলছি, দ্বিতীয়বার যেন ভুল না হয়
সিটি এস পি শিবদীপ লান্ডে এদিকে কার্যভার নিলেন আর তখনই দানাপুর থেকে একটি মেয়ে তাঁকে ফোনে খবর দেয়, তাকে এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি কিছুদিন ধরেই ফোনে বিরক্ত করছে৷ সেই ব্যক্তির নম্বরও মেয়েটি এস পি কে দিয়ে দেয়৷ আর সঙ্গে সঙ্গেই ওই নম্বরে ফোন করে শিবদীপ বলেন, লান্ডে বলছি, দ্বিতীয়বার যেন এই ভুল না হয়৷ আর তার পরেই ওই ব্যক্তি সিটি এস পি কে তিনবার ফোনে বলেন, তিনি ওই ভুল আর এ জীবনে করবেন না৷

হাজারও যুবক -লান্ডের ফ্যান




ইতিপূর্বে শিবদীপ লান্ডে যখন পাটনার এস পি হয়েছিলেন, তখন ওঁর ফ্যানেরা ওঁকে দাবাং, সিংহম আর রকস্টারের আখ্যায় ভূষিত করেছিল৷ আর সেসময় পাটনার গুণ্ডা, অপরাধীদের কড়া দাওয়াই দেওয়া এই লড়াকু অফিসার কিশোরদের মধ্যে যেন জাদু করে দিয়েছিলেন৷ তাঁর কৃতিত্ব ও সততায় হাজার হাজার যুবক-যুবতী আজও তাঁর ফ্যান৷
জন্মগ্রহণ মহারাষ্ট্রে
বছর চৌত্রিশের শিবদীপ বামন লান্ডের জন্ম হয়েছিল মহারাষ্ট্রের বিদর্ভ-এর অকোলা জেলায়৷ কৃষক পরিবারে জন্ম নেওয়া শিবদীপ প্রচুর প্রতিকূলতার মধ্যে নিজের শিক্ষা সম্পূর্ণ করেছিলেন৷ ২০০৬-এ আইপিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর তাঁকে নির্বাচিত করা হয়েছিল বিহার ক্যাডারের জন্য৷ বিহারের নকশাল-অধ্যুষিত এলাকায় ট্রেনিং হয় শিবদীপের৷ বিহারের অন্যান্য অঞ্চলে তাঁর দবাংসুলভ কীর্তিকলাপ শোনার পর তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার তাঁকে পাটনার এস পি করে নিয়ে আসেন৷ আর তাঁর বিজয়রথ শুধু এতেই থেমে থাকেনি, এরপর তাঁকে পরিবহণ এবং অপরাধ দমন বিভাগের অতিরিক্ত দায়িত্বও দেওয়া হয়৷
মদ্যপদের হাত থেকে তরুণীকে বাঁচিয়ে রাতারাতি হিরো
একবার শহরের মধ্যে তিন মদ্যপ ব্যক্তি এক যুবতীর সঙ্গে অশালীন আচরণ করছিল৷ অবস্থা বেগতিক দেখে ওই যুবতী মোবাইলে শিবদীপের সঙ্গে যোগাযোগ করেন৷ আর তারপরেই হিন্দি সিনেমার মতো ঘটনাস্থলে মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে পৌঁছে যান শিবদীপ৷ তরুণীটিকে বাঁচালেও কয়েক মিনিটের জন্য ফস্কে গিয়েছিল মদ্যপগুলো৷ কিন্তু এক সপ্তাহের মধ্যেই শিবদীপ তাদের খুঁজে বের করেন৷ আর এরপেরই শিবদীপের নাম ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে৷
শিবদীপের বদলির বিরোধিতায় সমর্থকরা নেমে পড়েছিলেন রাস্তায়
বিহার পুলিশের মহানির্দেশক শিবদীপের বদলি করে দিয়েছিলেন পুলিশ হেড কোয়ার্টারে৷ আর খবর ছড়িয়ে পড়তে না পড়তেই পাটনাতে শুরু হয়ে যায় উত্তেজনা৷ এমনকী শিবদীপের বদলির বিরোধিতায় সমর্থকরা নেমে পড়েছিলেন রাস্তায়ও৷

No comments:

Post a Comment